Only three advice that change your life.
আপনি কি নিচের ছবিটার মানুষটাকে চিনেন? যারা চিনেন তারা ভাগ্যবান, আর যারা এখনো চিনেন না; তারা হতভাগা।
আমার লাইফে অনেক বিশ্বমানের সাকসেসফুল মানুষের জীবন দর্শন এবং পরবর্তী জেনেরেশনের জন্য তাদের দেয়া পরামর্শ শুনেছি, তাদের মধ্যে অন্যতম ইন্দ্রা নুয়ি। তার সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করার মত যোগ্যতা আমি এখনো অর্জন করতে পারি নি। শুধু চেষ্টা করছি তার দেয়া সফলতার তিনটি শিক্ষা। আমার বিশ্বাস যদি কেউ এই তিনটা লেসন ফলো করে এবং বাস্তবে প্রয়োগ করে; তাহলে জীবন পরিবর্তন হতে বাধ্য। ১০০% গ্যারান্টেড। তার দেয়া এক নম্বর উপদেশ:
1. Be a lifelong student.
আমরা জানি শিশুরা বেশি Curious থাকে। এটা জানতে চায়, সেটা জানতে চায়। আকাশ নীল কেন? পাখি উড়ে কেন? বয়স বাড়ার সাথে সাথে কিউরোসিটিও চলে যায়। কিন্তু এই কিউরিসিটি থাকলেই আমার শেখার আগ্রহটা থাকে। সুতারং লাইফে কিউরোসিটি থাকা দরকার। এর মাধ্যমেই আপনি লাইফ লং স্টুডেন্ট থাকতে পারেন। আর যেদিন মনে করবেন আপনি সব কিছু জেনে ফেলেছেন; সেদিনই আপনার লাইফ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। তাই প্লিজ শেখার আগ্রহটা রাখুন। আপনি পিএইচডি করে ফেলেছেন? আপনার আর কিছু শেখার নেই? কে বলেছে? সবার কাছ থেকেই কিছু না কিছু শেখার আছে। ফেসবুক থেকে খালি বিনোদন না নিয়ে কিছু শেখার কাজে সময় ব্যয় করুন। ইউটিউবে যান দেখেন কি নেই সেখানে? সারা বিশ্বের মানুষ হাজার হাজার ডলার ব্যয় করে যাদের লেকচার শুনে অথবা যাদের স্পীচ শোনার মত সুযোগ হয়তো আপনার হবে না, সেই সকল লিজেন্ডারি লীডার, এডুকেটর, মেন্টর, কন্সাল্টেন্ট, রাইটার ফেসবুক লাইভে পরামর্শ দিচ্ছেন। আর তখন আপনি 'শীলা কি যাওয়ানি' অথবা ট্রল দেখায় ব্যস্ত। একটু ভাবুন - আপনি কি করবেন।
প্রথম Be a lifelong student; বলার পর তিনি যেটা বলেছেন সেটা হলো -
2. Whatever you do, throw yourself into it.
শুধু জব ডেস্ক্রিপশনে সীমাবদ্ধ থেকে করবেন না। নিজের জন্য কাজ করুন। কোম্পানির জন্য আপনার যা দেবার সেটা দিন। অনেকেই দেখি কাজকে খুব বিরক্ত সহকারে নেন। এমন অনেক কমেন্টসই আমাদের কর্পোরেটে প্রচলিত:
- আরে ভাই, আমরা তো কামলা।
- এত কাজ করে কি হবে?
- ভাই এটা আমার কাজ না
- ভাই ছয়টা বেজে গেছে আজ আর না।
- আরে ভাই, আমরা তো কামলা।
- এত কাজ করে কি হবে?
- ভাই এটা আমার কাজ না
- ভাই ছয়টা বেজে গেছে আজ আর না।
কি ভুল বললাম? নিশ্চয় না। এগুলো আমরা হরহামেশা শুনছি। এবার ভাবুন; যাদেরকে আপনার কাছে কর্পোরেট আইডল মনে হয়, সফল উদ্দক্তা মনে হয়, যারা কোম্পানির সিইও, সিওও তাদের কর্মঘন্টা কত? তারা কি ওয়ার্ক লাইফ ব্যালান্স করে এই পর্যায়ে এসেছেন? উত্তর পেয়ে যাবেন।
এবার ইন্দ্রা নুয়ির কথায় ফিরে আশি- whatever you do, throw yourself into it" আপনি যেটা করবেন, নিজেকে উজার করে দিয়ে করবেন। কাজ কে কাজ নয় বরং প্যাশন হিসাবে নেন। যখন কাজ করবেন put your Hand, Head and Heart on it. এটা "Triple H" নামে পরিচিত।
আমরা আসলে এতটাই পাগল বা নির্বোধ যে; মনে মনে ভাবি - আমাকে কেন সিইও বানালো না, আমাকে কেন প্রোমোশন দিল না? অথচ নিজেকে প্রশ্ন করিনা, আমি কি আসলেই আমার সর্বোচ্চটা দিচ্ছি আমার কর্মক্ষেত্রে?
Indra Nooyi, the Chairperson and Chief Executive Officer of PepsiCo who regularly figures on power lists, has three lessons to share with Gen Next: Be a lifelong student; whatever you do, throw yourself into it, and help others rise.
তিন নম্বর উপদেশ যেটা দিয়েছেন এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। "help others rise." অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতার মানুষের বড় অভাব আমাদের সমাজে, কর্পোরেটে এমন কি দেশে। অন্যকে সাহায্য করার পরিবর্তে আমরা বিপরীতটাই বেশি করছি। শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সঠিক। আমাদের সমাজ ব্যাবস্থায় এটা মারাত্মক একটা রোগ। অন্যের ভাল আমরা দেখেও অভ্যস্ত নই।
আপনার সামান্য সহযোগিতায় আরেকজন অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। বিশেষ করে আমাদের কর্পোরেটে হেল্পফুল মানুষের বড় অভাব। আবার কেউ কেউ আছেন বেশ হেল্পফুল, কিন্তু তাদেরকেও অগোচরে শুনতে হয়:
- আরে উনি বেশি পাকনা, কাজের কাজ নেই।
- হুহ! কত দেখলাম, এত ভাল হবার দরকার নেই।
দুনিয়ার নেগেটিভ কমেন্টস। অথচ যারা হেল্পফুল তারা এসব জেনে বুঝেই করে। কারণ এটা তারা জানে যে, কাউকে হেল্প করার মধ্যে একটা আত্মতৃপ্তি কাজ করে। তারা আপনার থ্যাংকইউ পাওয়ার জন্য হেল্প করে না। আর আপনি/আমি সামান্য থ্যাংকস টা দিতেও কার্পণ্য করি।
- আরে উনি বেশি পাকনা, কাজের কাজ নেই।
- হুহ! কত দেখলাম, এত ভাল হবার দরকার নেই।
দুনিয়ার নেগেটিভ কমেন্টস। অথচ যারা হেল্পফুল তারা এসব জেনে বুঝেই করে। কারণ এটা তারা জানে যে, কাউকে হেল্প করার মধ্যে একটা আত্মতৃপ্তি কাজ করে। তারা আপনার থ্যাংকইউ পাওয়ার জন্য হেল্প করে না। আর আপনি/আমি সামান্য থ্যাংকস টা দিতেও কার্পণ্য করি।
আমরা কেন অন্যকে হেল্প করিনা, এ বিষয়ে আমার নিজের কিছু অব্জারবেশন রয়েছে:
* EGO. এর কোন ব্যাখ্যা দরকার নেই।
* সাব্জেক্টিব নলেজের গভীরতা কম। সব সময় একটা ভয় কাজ করে, যদি আটকে যায়? কিন্তু সেটা তিনি ভালই জানেন। সাহস সঞ্চার করতে পারেন না।
* কিছু আছে একেবারেই অথর্ব, জানেই না। তবে ভাব নেয় দুনিয়ার সব সে জানে।
* কিছু আছে খুব ভাল জানেন কিন্তু ইন্ট্রোভাট টাইপের মানুষ, ঝামেলায় যেতে চান না। থাক কি দরকার।
* অনেকে আছেন নিজে জানেন, কিন্তু প্রেজেন্ট করতে পারেন না। ওই যে একটা কথায় আছে না "একজন ভাল ছাত্র মানেই, ভাল টিচার হতে পারে না" সেই টাইপ। নিজের কন্সেপ্ট ক্লিয়ার কিন্তু কাউকে বোঝাতে গেলে পাকিয়ে যায়।
* কিছু আছে অহংকারি। যারা সেই স্কুল থেকেই পরীক্ষায় একটি অব্জেক্টিভও কাউকে বলে হেল্প করেনি, কিংবা বললেও ভুল বলেছে টাইপ।
আমি বিশ্বাস করতে চাই কিছু অফিসের কালচার রয়েছে ব্যাতিক্রম। তারা বেশ হেল্পফুল, এবং এই মানসিকতার লোক সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
3. Help others rise.
এই কথাটার মধ্যে রয়েছে লীডারাশীপের সবচেয়ে বড় গুনাবলি। যেটাকে বলা হয় "Golden Leadership rules" সেটা হলো "Servant Leadership"। আমরা অনেকেই লীডারশীপ চায় কিন্তু দেয়ার বেলায় কঞ্জুস। এই মানিসিকতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। এগিয়া আসতে হবে একে অপরের উপকারে। দেখবেন আপনার জন্য অনেকে এগিয়ে এসেছেন - যা আপনি কল্পনাও করেন নি।
উল্লেখ্য, আলোচ্য লেখাটি একান্ত আমার নিজের উপলব্ধি থেকে লিখা। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, আপনার বিশ্বাস নিয়ে আপনি থাকুন।


No comments: